১৩ ব,ছরে পা দিল জোড়া থেকে আলাদা হওয়া সেই মনি-মুক্তা

দিনা,জপুরের বী,রগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা মনি-মু,ক্তা এখন ১৩ বছরে পা দিয়েছে। তারা দুজনে স্থানীয় ঝা,ড়বাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষ,ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। জোড়া থেকে আলাদা হওয়া সেই মনি-মু,ক্তা ভালো আছে। রোববার (২২ আগস্ট) নিজ বাড়িতে মনি-মুক্তার জন্মদিন পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শি,শু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপা,রেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তার জোড়া মাথা আলাদা করা হয়। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস।

প্রতি বছর বিদ্যালয়ের শি,ক্ষক ও মনি-মুক্তার বন্ধুবান্ধবসহ প্রতিবেশী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপ,স্থিতিতে কেক কেটে জন্মবার্ষিকী পালন করা হলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘরোয়া পরিবেশে জন্মদিন পালন করা হচ্ছে বলে জানান মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকা,শ পাল।

তিনি জানান, মনি মু,ক্তা সুস্থ এবং ভালো আছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থা,নীয়ভাবে নাচ শিখছে। উপজেলা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অং,শগ্রহণ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে তারা। করোনার কারণে স্কু,ল বন্ধ থাকায় প্রতিবেশী শি,শুদের সঙ্গে খেলা করে সময় কাটে তাদের।

জন্মদিনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে মনি-মু,ক্তা বলে, আমরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। দেশবাসীর দোয়া এবং সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো।

দিনাজপুর জেলার বী,রগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শরৎ চন্দ্র পালের ছেলে জয় প্রকাশ পাল। জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী পালের গর্ভে ২০০৯ সালের ২২শে আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে মনি এবং মুক্তা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেয়।

পরে রংপুরের চিকিৎসকগণ ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যমজ বোনকে অ,স্ত্র পাচারের মাধ্যমে পৃথক করার প,রামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ ক্রমে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে মনি-মুক্তাকে ভর্তি করা হয়।

৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু বি,শেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তা আলাদা হয়। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস।

মনি-মুক্তার বাবা জয় প্র,কাশ পাল জানান, সে সময় গ্রামের মানুষ এটাকে অভিশ,প্ত জীবনের ফসল বলে প্রচার করতে থাকে। সমাজের নানা কু,সংস্কারে প্রায় এক ঘরে হয়ে পড়ি। সমাজের নানা অপবাদে গ্রা,মে আসিনি। হ,তাশার মাঝে স্বপ্ন দেখি মনি-মু,ক্তাকে নিয়ে। বিভিন্ন চি,কিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকি তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হয় ডা. এ আর খানের কারণে। সেই মানুষটির কারণে আমাদের এই দুই সন্তানের নতুন করে বেঁচে থাকা।

About atiyar Rahman

Check Also

সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খান, কাজ করবে ম্যাজিকের মতন

খাবার রান্না করার জন্য আমরা সাধারণত রসুন ব্যবহার করে থাকি। তবে অনেকেই জানি না, এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *